ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শত শত ট্রেন বাতিল

ককরোচের বিক্ষোভ ঘিরে আটক ৪০০

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ১২:৩৬:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ১২:৩৬:৫১ অপরাহ্ন
ককরোচের বিক্ষোভ ঘিরে আটক ৪০০ ছবি : সংগৃহীত
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে শনিবারের বিশাল বিক্ষোভের আগে রাতভর ৪০০ বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শত শত ট্রেন এবং বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েক ডজন মেট্রো স্টেশন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

কক্ষরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সমর্থকদের যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্র পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছে।

শিক্ষা ও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের বিরুদ্ধে ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা ও পুলিশি ব্যবস্থার স্মৃতি দুই পক্ষের মনেই এখনও তাজা। ওই বিক্ষোভের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন। এ কারণে এবারের কর্মসূচি ভিন্নভাবে এগোতে পারে।

পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান গেট বন্ধ থাকবে। শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা অন্য রাজ্যের ২৫০টির বেশি ট্রেন এবং লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের ৪ কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, বিধিনিষেধ সত্ত্বেও স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনায় এগিয়ে যাবেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একদিকে আপনারা বলছেন বিক্ষোভে অসুবিধা হবে। অন্যদিকে মেট্রো, রেল বন্ধ করে ও রাস্তা আটকে দিয়েছেন। এতে কি অসুবিধা হবে না?

পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিক্ষোভ মোকাবিলার পদ্ধতি যেন আরেক দফা সমালোচনা ডেকে না আনে, তা নিশ্চিত করা। কর্মকর্তারা জানান, নির্দেশনা স্পষ্ট বিক্ষোভকারীদের নয়াদিল্লিতে ঢুকতে না দেওয়া এবং সংরক্ষিত এলাকা থেকে যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে দেওয়া।

দিল্লি পুলিশ প্রায় দেড় কিলোমিটারে এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশের সদর দফতর। এক কর্মকর্তা বলেন, এই এলাকায় ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবেন, যা অঞ্চলটিকে কড়া পাহারার জোনে পরিণত করবে।

নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে নয়াদিল্লি জেলার স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে অডিও রেকর্ডিং সুবিধাসহ ৩০০-এর বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

যন্তর মন্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার সড়কে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড রয়েছে। শেষ কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে ভেদ করা আরও কঠিন হয়।

স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার বসানো হয়েছে। রেকর্ড করা ঘোষণায় জানানো হচ্ছে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘোষণায় বিক্ষোভের জন্য জমায়েত না হতে, স্লোগান না দিতে, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করতে এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা না করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনগুলোকেও (আরডব্লিউএ) বার্তা ছড়িয়ে দিতে বলা হয়েছে যে বিক্ষোভের অনুমোদন নেই। বিক্ষোভে অংশ নিতে নয়াদিল্লি আসা ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়েছে, তারা গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন।

নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির লজ ও হোটেলগুলোতেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। হোটেল ব্যবস্থাপকদের অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে বলা হচ্ছে। এয়ারবিএনবি হোস্ট ও সম্পত্তির মালিকদেরও বিক্ষোভে যোগ দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের ভাড়া না দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেউ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন বলে সন্দেহ হলে পুলিশকে জানাতে।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগের মধ্যে বিক্ষোভ মোকাবিলার পুরো প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ করার ওপরও জোর দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

মাসের শুরুর বিক্ষোভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যাতে এক নারী বিক্ষোভকারীকে মারধর ও লাঞ্ছনার দাবিসহ পুলিশ সদস্যদের কথিত অসদাচরণ দেখা যায়। এসব অভিযোগে বাহিনীর আচরণ নিয়ে নজরদারি বেড়েছে।

ঘটনাগুলো যেন একাধিক কোণ থেকে নথিবদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ওপরের পদমর্যাদার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এবং দায়িত্বে থাকা অন্যদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া রিয়েল টাইমে ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, ফুটেজ ঘটনার ক্রম প্রতিষ্ঠা করতে, যাচাইযোগ্য প্রমাণ দিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি খণ্ডন করতে এবং কোনও ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা করবে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ